আদমজী বিহারী ক্যাম্পে দৃষ্টি আকর্ষণ ‘জনসমাগম‘ সচেতনতাই আমাদের নিরাপদ

সংবাদটি শেয়ার করুন
0Shares

বিশেষ প্রতিনিধি আলোকিত শীতলক্ষ্যা : পুরো বিশ্বকে কাঁদিয়ে করোনাভাইরাস এক মহামারিতে রুপ নিয়েছে। দিনের পর দিন যেন বেড়েই চলছে। আমাদের বাংলাদেশ আয়তনে ছোট কিন্তু জনসংখ্যা অনেক বেশি। সবার আগে বাংলাদেশের এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে করোনাভাইরাসের সম্পর্কে আগে সচেতন হতে হবে। ইসলামের বিধিবিধান মেনে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। এজন্য প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে জনসচেনতায় দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী।

সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত আদমজী ইপিজেড সংলগ্ন বিহারী ক্যাম্প এলাকায় প্রায় দুই হাজার পরিবার রয়েছে। প্রতিটা পরিবারে গড়ে পাঁচজন সদস্য হলে প্রায় ১০ হাজার বিহারীদের বসবাস ইপিজেড এরিয়ায়। এখানে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর অবাদে ঘেঁষাঘেঁষি করে ঘোরাঘুরি করছে।

বাংলাদেশ সরকার প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে দেশবাসীকে করোনাভাইরাস থেকে সতর্ক ও নিরাপদ থাকার আহবান জানিয়েছেন। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বনসহ অযথা বাইরে চলাফেরা না করতে এবং সবাইকে জনসমাগম থেকে এড়িয়ে চলার জন্য আহ্বান করা হয়। আহ্বান করা হয় সবাই আল্লাহর নিকট প্রার্থণা করুণ যে আল্লাহ আমাদেরকে এই মহামারী থেকে রক্ষা করে। আর জনসমাগম থেকে সচেতনতাই পারে আমাদেরকে নিরাপদে রাখতে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, তারা সরকারি নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করছে। রাতের আঁধারে তারা খানকা নামক জলসা ঘরে দরজা বন্ধ করে শতশত নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে ফাতিহা পাঠ করে দোয়া করছে করোনা ভাইরাসের । বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে পুরো বিশ্বে দূরত্ব বজায় রেখে চলার আহ্বান জানাচ্ছে। এমনকি ঘরের সদস্যদের একে অপরের দূরত্ব বজায় রেখে চলতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্যসংস্থাগুলো, সেখানে এই বিহারীদের কোনো খেয়ালই নেই এ সমন্ধে। বিকেল হলে দেখা যায় ছোট ছোট শিশু কিশোর জড়ো হয়ে খেলাধুলা করছে, কেউ কেউ—জু—য়া—খেলছে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খানকা নামক জলসার ঘরগুলোতে বেশ কয়েকটি ঘর রয়েছে। রাতের আঁধারে ঘরের দরজা বন্ধ করে কাজ করে যাচ্ছে। 

সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও বাংলাদেশের মানুষ অসচেতনার কারনে এই ভাইরাসটি ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি। তবে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জনগণকে সচেতনতা সম্পর্কে।

আদমজী বিহারি পট্টি মানুষের অবাধ চলাফেরায় চলমান করোনা ভাইরাস এর পরিস্থিতিতে ভয়াবহ মহামারির রুপ ধারণ করতে পারে নারায়ণগঞ্জে বসবাসরত মানুষের। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করার পরেও তারা কোনোভাবেই মানছেনা সরকারি দিকনির্দেশনা।

সচেতনবাসী জানায়, এই বিহারীদের ঢাকা নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজের জন্য যাতয়াত করতে হয়, তাদের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে সেলুন, ব্যবসা থেকে শুরু করে অনেক ধরনের কাজের সাথে তারা জড়িত। সারাদিন কাজ করে দিনশেষে তারা নিজ ঘরে (বিহার পট্টি) ফিরছেন। এমনকি ইপিজেটের মতো সংরক্ষিত এলাকায় তারা পকেট গেইট দিয়ে পারমিশন ছাড়া অবাধে আসা-যাওয়া করছেন এবং সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করছেন তাদের সংস্পর্শেও বিহারিদের বিচরণ করতে দেখা যায়।

তাই আবেগ করে তারা বলে যে, গরীবতো কাজ না করে ঘরে থাকলে মারা যাবো, না খেয়ে, আর বহিরে কাজে, মারা যাবো করোনাভায়রাসে। ঘর থেকে বের হতে না পারলে/কাজ না করলে তারা খাদ্য সংগ্রহ করবে কোথা থেকে।  জনসচেতনতার লক্ষে দৃষ্টি আকর্ষণ

সৃষ্টি জগতের সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ। সমাজের আশ্রয়হীন, দুর্বল ও অসহায় লোকজনের সাহায্য-সহযোগিতা ইবাদতেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিপদগ্রস্ত ও অভাবী মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার এবং তাদের অভাবের দিনে হাত বাড়ানোর তওফিক দান করুন। আমীন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
0Shares

আলোকিত শীতলক্ষ্যা

পরিশ্রমকারীব্যক্তি কখনও ব্যর্থ হয়না এগিয়ে যাও সফল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.