হাজী মো: চাঁন মিয়ার সাংবাদিক সম্মেলন-ত্রান বিতরণে বাঁধা

সংবাদটি শেয়ার করুন
0Shares

বিশেষ প্রতিনিধি আলোকিত শীতলক্ষ্যা : নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক এবং বাংলাদেশ কর্মজীবি লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাজী মো: চাঁন মিয়া সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কুচক্রী মহল ত্রান বিতরণে বাঁধা দিচ্ছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোড এলাকাস্থ তার মালিকানাধিন ফজর আলী গার্ডেন সিটি মার্কেটে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তবে চাঁনমিয়া বলেন, সম্প্রতি বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সরকার লকডাউনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এতে বন্ধ হয়ে যায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা বানিজ্য। অবরুদ্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়ে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। চরম খাদ্য সংকটে পড়ে নিন্ম ও দরিদ্র শ্রেনীর লোকেরা। সিদ্ধিরগঞ্জ তার ব্যতিক্রম নয়। তাই মানবিক বিবেচনায় শিল্পপতি ও সমাজ সেবক হাজি চাঁন মিয়া পাঁচশ দরিদ্র অসহায় পরিবারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য চাল,ডাল,পেঁয়াজ ও তেল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে চাঁনমিয়া বলেন, নাসিক ১নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার জন্য গত ১২ এপ্রিল রবিবার বিকেলে তার ছেলে আল-আমিনকে পাঠান বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ দেয়ার কার্ড বিতরণ করতে। আল আমিন কার্ড বিতরণ করে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল আরোহী র‌্যাব-১১’র দুইজন সদস্য তার পথরোধ করে। র‌্যাব সদস্যরা বাহিরে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে আল আমিন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের কার্ড বিতরণ করে বাসায় ফিরছে বলে জানায়। বিষয়টি র‌্যাব সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা স্থানীয় ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে। কাউন্সিলরের সাথে কথা শেষ করে র‌্যাব সদস্যরা আল-আমিনকে মারধর করতে থাকে। বিষয়টি জানতে পেরে আল-আমিনের পিতা হাজি চাঁনমিয়া র‌্যাব-১১ কার্যালয়ে ফোন করে অধিনায়কের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তাৎক্ষণিক ভাবে সম্ভব হয়নি। পরে র‌্যাব ১১ এর একজন এএসপি হাজি চাঁনমিয়াকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে চাঁনমিয়া দরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণের কথা খুলে বলেন। তখন র‌্যাবের ওই অফিসার জানায়, ত্রান বিতরণ করতে হলে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে করতে হবে। এভাবে নিজ উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা যাবেনা। ত্রাণ বিতরণ করবে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। এ বলে র‌্যাব মোবাইল রেখে দেয়ে। তবে র‌্যাবের ওই অফিসারের নাম কি তা জানতে পারেনি চাঁনমিয়া। এ ঘটনায় তিনি ত্রাণ বিতরণ স্থগিত করে দেন।

করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর এর আগেও তিনি ৫ হাজার মাস্ক ও ৩ শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন বলে তিনি জানান। এতে ঈর্ষান্নিত হয়ে একটি কুচক্রি মহল তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়। কারণ, হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী সিটি নির্বাচনে ১ নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করায় জনসেবামূলক কাজে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে ঐ মহলটি। যাতে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি না পায়।

চাঁনমিয়া আরো বলেন, ১ নং ওয়ার্ডে অসংখ্য দরিদ্র কর্মহীন অভাবী মানুষ সরকারি সাহায্য না পেয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এতে অনেক দরিদ্র মানুষ খাদ্য সংকটে ভোগছেন। সেই মানবিক দিক বিবেচনা করেই সরকারি ত্রাণ না পাওয়া দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করার উদ্যোগ নেন তিনি। তাই তিনি সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করে অসহায় মানুষ যেন ত্রাণ সামগ্রী পায় ও তাকে ত্রাণ বিতরণে বাঁধা প্রদানের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার করার উদ্যোগ গ্রহন করার আবেদন জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন
0Shares

আলোকিত শীতলক্ষ্যা

পরিশ্রমকারীব্যক্তি কখনও ব্যর্থ হয়না এগিয়ে যাও সফল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.