সিদ্ধিরগঞ্জে ভুমি পল্লীর সেই নুর নবীসহ গ্রেফতার-২

সিদ্ধিরগঞ্জ

আলোকিত শীতলক্ষ্যা : সিদ্ধিরগঞ্জ ভুমি পল্লী আবাসিক প্রকল্প এলাকার সেই নুর নবী (৫০) ও তার এক সহযোগী দুলাল মিজি (৫০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে জাহাঙ্গীর ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করার অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুমি পল্লী আবাসিক প্রকল্প এলাকায় জাহাঙ্গীরের বাড়ির উন্নয়নের কাজ করার জন্য দুলাল মিজি, নুর নবী ও মফিজুল ইসলাম জোর দাবি জানান। জাহাঙ্গীর ওই কাজ তাদেরকে দিবেনা জানালে তারা জাহাঙ্গীরের বাসায় আসিয়া তাকে মারধর করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী করলে পুলিশ তদন্ত করে এর সত্যতা পায়। পরে এঘটনায় মামলা রুজু করা হয়।

এদিকে নুর নবী গ্রেফতারের খবরে ভুমি পল্লী এলাকায় স্বস্তী ফিরে আসে। সাধারণ মানুষরা নানা প্রকার অভিযোগ উথাপন করে গ্রেফতারকৃতদের শাস্তি দাবি করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ভূমি পল্লি আবাসিক এলাকায় নানা প্রকার বিতর্কিত উদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে অনৈতিক সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েক ব্যক্তি এদের মধ্যে গ্রেফতারকৃতরা অন্যতম। তারা নেপথ্যে থেকে সমস্ত অপকর্মের কলকাঠি নাড়ছেন।

ভূমি পল্লি আবাসিক জামে মসজিদের খতিব নিয়ে বিতর্কিত পরিস্থিতির নেপথ্য ওরা ছিলো। করোনা ভাইরাসের শুরুর দিকে সাহায্য তহবিল গঠন করে অসহায় পরিবারদের পাশে দাড়াতে গেলেও নুর নবী নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নেড়েছিলেন যাতে তহবিলের টাকাটা তার হাতে আসে। এসব অপকর্ম করে নুর নবী ভূমি পল্লি আবাসিক প্রকল্পের সুপার ভাইজার হলেও বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। ওই সমিতিতে মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতন পান নুর নবী। অথচ ভুমি পল্লি আবাসিক এলাকা ও এর পার্শ্বের দুটি মার্কেটে তার শেয়ার রয়েছে। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় বলাকা হ্উাজিং এ মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করে সেখানকার সভাপতি হয়েছেন।

এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি পল্লি আবাসিক প্রকল্পে জমি কেনাবেচা করতে গেলে নুর নবী গংরা কৌশলে সেখানে নানা অজুহাত তৈরী করে মিমাংসার নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। যারা তাদের সিদ্ধান্তে না মনে চলতে চান তাদের পড়তে হয় নানা ভোগান্তিতে। এক সময়ে জমির মায়া ছাড়তে হয়। নুর নবী নানা কৌশলে কেনা বেচা বন্ধ রেখে পরে তার মাধ্যমে কেনাবেচা করে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা।

ওই এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জি. জসিম উদ্দিন জানান, তিনিও তার একটি প্লট নিয়ে নুর নবীদের ফাঁদে পড়েছেন। পরে তাকে কৌশলে বাধ্য করা হয়ে ৮০ লাখ টাকার জমি ৫৫ লাখ টাকা বিক্রি করতে।
এলাকাবাসীর দাবি নুর নবীর সম্পদের তদন্ত করলেই তার অবৈধ আয়ের উৎস বের হয়ে আসবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) গৌতম তেওয়ারী জানান, তার বিরুদ্ধ আনীত অভিযোগ তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও তদন্তকালে এলাকাবাসীর বিভিন্ন অভিযোগ আমরা শুনেছি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান।

◤সংবাদটি শেয়ার করুন◥
0Shares