মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ১০ টাকায় পুষ্টি চাল

সংবাদটি শেয়ার করুন
0Shares

স্টাফ রিপোর্টার আলোকিত শীতলক্ষ্যা ডটকম : মুজিব বর্ষ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের ৫ হাজার ২৪৮ পরিবারকে সাত মাসের জন্য ১০ টাকার চালে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। অপুষ্টি দূর করতে এ ফরটিফাইড পুষ্টি চাল দিচ্ছে সরকার। এ মাস থেকেই শুরু হচ্ছে অসহায় গরীবদের মধ্যে ১০ টাকার চাল বিক্রির কার্য্যক্রম।

আগে বছরে ৫ মাস এই সুবিধা দেয়া হত। বাড়ানো হয়েছে আরও দু’মাস। সবমিলিয়ে সুবিধা ভোগীরা সাত মাস এই সুবিধা পাবেন। এপ্রিল থেকে শুরু হলেও এবার তা মার্চ থেকে শুরু হবে। খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, আগে এপ্রিল-নভেম্বর এই ৫ মাস চাল কিনতে পারতেন গরীব মানুষ।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বন্দর উপজেলায় ৩ হাজার ৯৪৮ পরিবারকে দেয়া হবে ১১৮টন ৪৪০ কেজি পুষ্টি চাল। তাছাড়া সোনারগাঁ উপজেলায় ভিজিডি কার্ডের বিপরীতে ১ হাজার পরিবার ৩০ টন পুষ্টি চাল পাচ্ছে। অপরদিকে, রূপগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ১৬৬ পরিবার, আড়াইহাজারে ১হাজার ১৮৯ পরিবার এবং সদরের ১ হাজার ৮৯২ পরিবার ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় চাল পাচ্ছে বিনামূল্যে।

জেলা খাদ্য অফিস সূত্র মতে, অপুষ্টি দূর করতে ফরটিফাইড পুষ্টি চাল দিচ্ছে সরকার। মূলত চলমান খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্রদের মধ্যে এ চাল বিতরণ করা হবে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় পরীক্ষামূলকভাবে সোনারগাঁ উপজেলায় পুষ্টি চাল বিতরণ করা হয়। মূলত মেশিনের সাহায্যে ছয়টি পুষ্টি উপাদানের সমন্বয়ে ফরটিফাইড রাইস কার্নেল (শাঁস) তৈরি হবে। সাধারণ চালের সঙ্গে সেই কার্নেল মিশিয়ে তৈরি হবে পুষ্টি চাল।

নারায়ণগঞ্জ জেলা খাদ্য অফিসের উর্ধতন কর্মকর্তার মতে, একটা সময় আমরা গরিব ছিলাম। তখন পেটপুরে খাওয়ার কথা চিন্তা করতাম। এখন আমরা সেটার মধ্যে সীমিত থাকতে চাচ্ছি না। এখন চাচ্ছি যাতে নিউট্রেশনটাও কভার হয়। গরিব মানুষেরতো সব খাবারের ব্যালেন্স হয় না। ফল বা পুষ্টি জাতীয় খাবার তারা অনেক সময় কিনতে পারে না।

সরকার ডব্লিউএফপির সহায়তা নিয়ে পুষ্টি চাল বিতরণ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ চালে ছয়টি পুষ্টি উপাদান থাকবে। ভিটামিন-এ, বি-১, বি-১২, আয়রন, ফলিক এসিড ও জিঙ্ক। এ ছয়টি উপাদান মেশিনের সাহায্যে চালে মিশিয়ে দেয়া হবে। পুষ্টি চাল তৈরির মেশিনটি প্রথমে চীন থেকে আনা হয়েছে। এখন এ মেশিন দেশেই তৈরি হচ্ছে। পুষ্টি উপাদানগুলো বিদেশ থেকে আনা হয়।

এরপর সেগুলো মেশিনের সাহায্যে চালের মতো (ফরটিফাইড রাইস কার্নেল) বানানো হয়। পরে চালের সঙ্গে মিশিয়ে বস্তা প্যাকেট করে দেয়া হয়। প্রতি ১০০ কেজিতে এক কেজি হারে পুষ্টি চাল মেশানো হবে। এটা মেশিনে অটোমেটিক গড় করে দেবে। এ চালের মাধ্যমে পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে কিন্তু চালের স্বাদের পরিবর্তন হবে না। যে এলাকায় এ চাল বিতরণ হবে, সেখানে মেশানোর জন্য একটি মিল থাকতে হবে। সে মিল স্থাপনে ছয় লাখ টাকার মতো খরচ হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে সোনারগাঁ উপজেলায় পুষ্টি চাল দেয়া হচ্ছে। শিগগিরই বন্দর উপজেলায় এ চাল দেয়া হবে। তবে এটা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। যেসব এলাকায় পুষ্টিহীনতা বেশি সে এলাকা দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
0Shares

আলোকিত শীতলক্ষ্যা

পরিশ্রমকারীব্যক্তি কখনও ব্যর্থ হয়না এগিয়ে যাও সফল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.