‘বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরকে আর্ন্তজাতিক মানের প্রতিষ্ঠান করা হবে : প্রতিমন্ত্রী

সংবাদটি শেয়ার করুন
0Shares

স্টাফ রিপোর্টার আলোকিত শীতলক্ষ্যা : ‘বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরকে আর্ন্তজাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে’ উল্লেখ করে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেছেন, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ শুরু করেছেন সরকার। জাতির জনক বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখা, সংরক্ষণের জন্যই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের হাত ধরে লোককারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন আয়োজিত মাসব্যাপী লোকজ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কৃতি বান্ধব সরকার। জননেত্রী শেখ হাসিনা সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। জয়নুল আবেদীনকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য ময়মনসিংহ জয়নুল সংগ্রহশালায় ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সোনারগাঁ জাদুঘরেও একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা চাই ময়মনসিংহের সাথে সোনারগাঁয়ের যোগসুত্র ঘটাতে।

প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, সোনারগাঁ অঞ্চলকে বিশ্ব কারুশিল্প শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সোনারগাঁ অঞ্চলে এক সময় মসলিন কাপড় তৈরীর জন্য বিখ্যাত ছিলো। বর্তমানে মসলিনের হাত ধরে সোনারগাঁয়ে জামদানী তৈরী হচ্ছে। যা দেশে বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক আহমেদ উল্লাহ’র সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সাংসদ লিয়াত হোসেন খোকা, নেত্রকোনা-৩ আসনের সাংসদ ও আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসিম কুমার উকিল, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন, পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম প্রমূখ।

এবারের মেলায়, বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চল থেকে ৬৪ জন কারুশিল্পী প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। কারুশিল্পীদের জন্য ৩২টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্য নওগাঁ ও মাগুরার শোলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাড়ি, চট্টগ্রামের তালপাখা ও নকশি পাখা, রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁয়ের হাতি, ঘোড়া, পুতুল ও কাঠের কারুশিল্প, নকশিকাঁথা, বেত ও বাঁশের কারুশিল্প, নকশি হাতপাখা, সিলেট ও মুন্সিগঞ্জের শীতল পাটি, কুমিল্লার তামা-কাঁসা পিতলের কারুশিল্প, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারুপণ্য, কিশোরগঞ্জের টেরাকোটা, সোনারগাঁওয়ের পাটের কারু শিল্প, নাটোরের শোলার মুখোশ শিল্প, মুন্সিগঞ্জের পট চিত্র, ঢাকার কাগজের হস্তশিল্পসহ মোট ১৫৪টি স্টল রয়েছে।

এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত লোক মঞ্চে বাউলগান, পালাগান, কবিগান, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালী গান, জারি-সারি ও হাছন রাজার গান, লালন সংগীত, মাইজভান্ডারী গান, মুর্শিদী গান, গাঁয়ে হলুদের গান, বান্দরবান, বিরিশিরি, কমলগঞ্জের-মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শরিয়তী-মারফতি গান, ছড়া পাঠের আসর, পুঁথি পাঠ, গ্রামীণ খেলা, লাঠি খেলা, দোকা খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, লোকজ জীবন প্রদর্শনী, লোকজ গল্প বলা, পিঠা প্রদর্শনী ইত্যাদি থাকবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহ জানান, সোনারগাঁয়ে মাসব্যাপী আয়োজিত এই লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব চলবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। তিনি জানান, দীর্ঘ এক মাসব্যাপী এই মেলাকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও যাবের সিও’র সাথে আলাপ আলোচনা হয়েছে। সে লক্ষ্যে মেলায় আগত দর্শণার্থীদের নিরাপত্তায় র‌্যাব, পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই মেলা সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
0Shares

আলোকিত শীতলক্ষ্যা

পরিশ্রমকারীব্যক্তি কখনও ব্যর্থ হয়না এগিয়ে যাও সফল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.