কে ভোট দিলো, কে দিলোনা সেটা দেখার দরকার নাই,একটি মানুষও যাতে না খেয়ে কষ্ট না পায় : প্রধানমন্ত্রী

সংবাদটি শেয়ার করুন
0Shares

বিশেষ প্রতিনিধি আলোকিত শীতলক্ষ্যা : নারায়ণগঞ্জে এতো বেশি করোনা রোগী সংক্রমিত হওয়ার পরও সেখানে কোন ল্যাব কিংবা রিসার্চ সেন্টার নেই জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জে করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তের জন্য পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। যতক্ষন সেটি না করা যায় ততক্ষণ আলাদা একটি টিম গঠন করে দিয়ে ঢাকায় নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। যেহুতু নারায়ণঞ্জে সংক্রমনের পরিমানটি বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে নারায়ণগঞ্জে করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জেনে তিনি এসব নির্দেশনবলী কর্মকর্তাদের জানান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জে করোনা পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড ল্যাব নেই। তবে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসতে বেশি সময় লাগেনা। ঢাকায় আসলেও আমরা টেস্ট করে দিতে পারি ও করে দিচ্ছি। ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত কমিটি করে দিতে হবে। ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে কারা আপনার ভোটার সেটি দেখলে হবেনা। সাধারণ জনগণ যারা এখন দুস্থ ও অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছে তাদের নামের তালিকা তৈরি করতে হবে। আমি এটি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাই। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। কে আমার দল করলো, কে করলোনা, কে আমাকে ভোট দিলো, কে দিলোনা সেটা দেখার দরকার নাই। যার অবস্থা খারাপ, কিংবা যে দুস্থ যার বাসায় খাবার নাই তার ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। এটিই আমিই চাই। এই ম্যাসেজটাই সকলকে পৌঁছাতে চাই। একটি মানুষও যাতে না খেয়ে কষ্ট না পায়।

নারায়ণগঞ্জের সার্বিক করোনার চিত্র ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশদভাবে তুলে ধরেন নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালের আবাসিক ডাক্তার (আরএমও) সামসুদ্দোহা সঞ্চয়।

প্রধানমন্ত্রীকে সামসুদ্দোহা সঞ্চয় জানান, নারায়ণগঞ্জে ২১৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ১৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি ধন্যবাদ জানাই, বাস্তবতার নীরিখে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতাল ঘোষণা দেয়ার জন্য। খানপুর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ ১৬ জন মেডিকেল কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে খানপুর হাসপাতালে পুরোপুরিভাবে। এখন সেখানে ১৪ জন রোগী ভর্তি আছেন। গতকাল ৪২ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি।

সঞ্চয় প্রধানমন্ত্রীকে জানান, যেহুতু নারায়ণগঞ্জে আক্রান্তের সংখা বেশি। প্রচুর বিদেশ ফেরত লোক নারায়নগঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। সেজন্য আমি দাবি জানাবো নারায়ণগঞ্জে করোনা পরীক্ষার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পিসিআর ল্যাব স্থাপনের। যেহুতু নারায়ণগঞ্জে একটি করোনা হাসপাতাল আছে। নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাতে অনেক সময় দুইদিনও লেগে যাচ্ছে। একটি পিসিআর ল্যাব থাকলে সকালে স্যাম্পল কালেকশন করে সন্ধ্যায় আমি রিপোর্ট পেয়ে যেতে পারবো। এই সময়টা যদি আমরা বাঁচাতে পারি তবে দ্রুত আমরা কেইস ডিটেকশনটা করতে পারবো, চিকিৎসা করতে পারবো। দরকার হলে আইসোলেশনে পাঠাতে পারবো, হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠাতে পারবো। এমপিসহ সকলের তরফ থেকে আপনার কাছে দাবি জানাই আপনি অতিদ্রুত নারায়ণগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ পিসিআর ল্যাব স্থাপনের খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালে।

সঞ্চয় জানান, এই হাসপাতালে করোনার চিকিৎসারত ডাক্তারদের এন-৯৫ মাস্ক নেই। আমরা একটিও পাই নাই। এরপরে চিকিৎসা দেয়া থেমে থাকেনি। তারা ঝুঁকি নিয়েই করোনা রোগীদের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। আমি জানিনা সেই কারণেই কিনা আমার হাসপাতালে ১৬ জন চিকিৎসক, নার্স করোনায় আক্রান্ত! তাই আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। এছাড়া করোনা জন্য বিশেষায়িত খানপুর হাসপাতালে করোনার পরীক্ষার জন্য কোন পিসিআর ল্যাব এখনো নেই। তিনি এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সঞ্চয় বলেন, পুলিশ, র‌্যাবসহ সকলে আপনার নির্দেশনায় এই যুদ্ধে জয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।

সাথে সাথেই প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জে করোনা এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কেন এসব করা হয়নি তা জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত করতে বলেন। সেখানকার কর্মকর্তাদের অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বলেন, ঢাকার পরে সবচাইতে বেশি আক্রান্ত নারাণয়ণগঞ্জে। নারায়ণগঞ্জে ল্যাব নেই। এন-৯৫ মাস্ক নেই। নারায়ণগঞ্জে ল্যাব স্থাপনের জন্য কোন ইনস্টিটিউশন নেই শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি খুব অবাক হচ্ছি, নারায়ণগঞ্জে কোথাও কোন রিসার্চ সেন্টার নেই। নারায়ণগঞ্জ কি সারাজীবন ঢাকার উপর নির্ভর করে চলে আসছে!

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, আমরা চেষ্টা করছি নারায়ণগঞ্জে ল্যাব স্থাপন করা যায় কি না। সেখানে আগে ল্যাব সেট আপ করে পরে পিসিআর মেশিন দেয়ার ব্যবস্থা করবো। আমাদের পিসিআর আছে কিন্তু ল্যাব নেই। আমরা চেষ্টা করছি অন্য কোথাও থেকে ল্যাবের ব্যবস্থা করা যায় কিনা। ল্যাব সেট আপ করে সেখানে পিআর মেশিন বসাতে একটু সময় লাগবে। এন-৯৫ মাস্কের যোগান একদম কম। কিন্তু সমমানের অন্য মাস্ক আছে। সেগুলো নারায়ণগঞ্জে প্রয়োজনের তুলনায় কম দেয়া হয়েছে। আবার দেয়া যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর একটি ল্যাব স্থাপনের খুব চেষ্টা করছেন। আমরাও চেষ্টা করছি। বাংলাদেশে পিসিআর মেশিন এভেইলএবল নয়, তবে আমরা দ্রুতই নারায়ণগঞ্জে একটি ল্যাবে পিসিআর মেশিন বসিয়ে ফেলবো। নারায়ণগঞ্জে করোনা চিকিৎসার জন্য যেই যেই সংকট তৈরি হয়েছে তা দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেবো।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজার সভাপতিত্বে ভিডিও কনফেরান্স অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমপি নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, নারায়ণগঞ্জে করোনা বেশি ছড়িয়েছে, প্রতিটি উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে যারা বাহিরে গেছেন সেখানেও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আমরা আপনার নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। নারায়ণগঞ্জে করোনা শনাক্তের গতিটি বাড়ালে ভালো হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন
0Shares

আলোকিত শীতলক্ষ্যা

পরিশ্রমকারীব্যক্তি কখনও ব্যর্থ হয়না এগিয়ে যাও সফল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.